ক্ষত বিক্ষত হৃদয়ের রং


ক্ষত বিক্ষত হৃদয়ের রং



কখনো অনলবর্ষী রোদঝলমলে নীলে,
আবার কখনো একপশলা বৃষ্টির পর
ভেজা পাতার ফাঁকে ফাঁকে উঠে আসে লেলিহান শিখা—
ডালে ডালে জ্বলে ওঠে কৃষ্ণচূড়ার অগ্নিময় লাল।
এ যেন এক নিঃশব্দ বিদ্রোহ,
আঁধারের বিপরীতে রক্তিম আশার উচ্চারণ।
তাঁর প্রতিটি থোকা যেন আবিষ্ট করে রাখে চেতনাকে,
তাকিয়ে থাকলেও তৃষ্ণা মেটে না।
ঝকঝকে নীলাকাশের ক্যানভাসে
সে লালের ছোপ, যেন কোনো শিল্পীর
হৃদয়-রঞ্জিত তুলির টান—
চোখ ধাঁধিয়ে দেয়, আবার মনটাকে করে শূন্যের মতো ভারী।
তবুও, যখন ঘনিয়ে আসে কালো মেঘ,
আকাশজুড়ে বিদ্যুতের চমক,
তারই ফাঁকে কৃষ্ণচূড়ার লাল—
হঠাৎ যেন হয়ে ওঠে অদ্ভুত এক প্রেমের উপমা।
কঠিন আবেগের আশ্লেষে জড়িয়ে
হৃদয়ের গোপন কুঠুরিতে রেখে দেয় দহন,
যা স্পন্দন বাড়িয়ে দেয় প্রতিটি নিঃশ্বাসে।
পূর্ণিমার চাঁদ হোক কিংবা সড়কবাতির হলুদ আলো—
রাত্রির কৃষ্ণচূড়া যেন ভালোবাসার আঁচলে ঢাকা
এক রহস্যময় মুখ,
যাকে ছুঁয়ে দেখা যায় না,
তবে অনুভব করা যায় হৃদয়ের গভীরতম কাঁপনে।
পথের পাশে পড়ে থাকা একটি কৃষ্ণচূড়া হাতে তুলে,
কারও এলোমেলো চুলে গুঁজে দিতে গিয়ে
যদি ঠোঁটের স্মৃতি জেগে ওঠে—
তবে তাকে কি দোষ দেওয়া চলে?
জীবনের সাদাকালো পরতে পরতে
এই টকটকে লালের উপস্থিতি
এক বিদায়ী ভালোবাসার প্রতীক হয়ে থাকে।
যখন প্রেম রক্তাক্ত হয়,
তখন হৃদয়ের ক্ষতবিক্ষত চেহারা
কি কৃষ্ণচূড়ার মতোই লাল হয়ে ওঠে না?
লাল, যেটি শুধু রঙ নয়,
এক গভীর অনুভব—
এক বিস্মৃত না হওয়া গল্প—
এক ধ্বংসের মধ্যেও বেঁচে থাকার গান

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

buttons=(Accept !) days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !