বাংলাদেশে আদিবাসী কারা?

 


 

বাংলাদেশে আদিবাসী: পরিচিতি, বিতর্ক ও বাস্তবতা

বাংলাদেশে আদিবাসী কারা?



আদিবাসী শব্দের অর্থ নিয়ে দেশে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। প্রখ্যাত নৃবিজ্ঞানী লুইস হেনরি মর্গানের মতে, 

“কোনো স্থানে স্মরণাতীতকাল থেকে বসবাসকারী আদিম জনগোষ্ঠী, যাদের উদ্ভব ও বিস্তারের সুনির্দিষ্ট ইতিহাস নেই, তারাই সেই স্থানের আদিবাসী।”


তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, নিজেদের আদিবাসী বলে দাবি করা বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়। অন্যদিকে, বাঙালির ইতিহাস হাজার বছরের পুরোনো। বাঙালি কৃষকের চাষাবাদ এবং সংস্কৃতির প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে চর্যাপদ প্রায় ১,৪০০ বছর আগের। তাই এই অঞ্চলে বাঙালির উপস্থিতি এবং ভূমিকার গভীরতা অন্য যেকোনো জাতিগোষ্ঠীর চেয়ে সুপ্রাচীন।
সংবিধানে

 ‘আদিবাসী’ শব্দ নেই
বাংলাদেশ সংবিধানের ২৩(ক) অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে,

  ‘উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়’ 

শব্দগুলোর, তবে ‘আদিবাসী’ শব্দটির কোনো অস্তিত্ব নেই। তবুও কিছু গোষ্ঠী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে নিজেদের আদিবাসী হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে আসছে।
বিশেষত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ফান্ডিং প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে কিছু এনজিও ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবী বিদেশি ইন্ধনে আদিবাসী ন্যারেটিভ চালু করেছে। তবে এটি বাঙালির জাতিসত্তার প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের একটি প্রচেষ্টা বলে মনে করেন অনেকেই।


সরকারি উন্নয়ন উদ্যোগ
বাংলাদেশ সরকার সবসময় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশ সরকার পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে মনোযোগ দেয়। সেই সময়—

৩০০০ কিমি রাস্তা নির্মাণ,

শিক্ষার হার ১২.৭৯% থেকে ১৯.৪৮% উন্নীত,

বৈদেশিক বৃত্তি প্রদান,

ছাত্রাবাস বরাদ্দ ইত্যাদি উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে—

একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপন,

৪৭৯টি উচ্চবিদ্যালয় এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা,

মাতৃভাষায় পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ,

কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বৃদ্ধি,

২৫টি হাসপাতাল নির্মাণ এবং

তিনটি স্থলবন্দর স্থাপন করেছে।

এছাড়াও, নৃগোষ্ঠীগুলোর ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

 তারা উপজাতি হিসাবে থাকা সম্মানজনক ও যৌক্তিক।

ভূমিপুত্র বাংলাদেশীরাই আদিবাসী।


বাঙালির প্রতি চক্রান্ত
বাঙালিকে ‘আদিবাসী’ নয় বরং বহিরাগত হিসেবে চিত্রিত করার পেছনে একটি সুস্পষ্ট বৈষম্যমূলক চক্রান্ত লক্ষ্য করা যায়। এটি বাঙালিকে তার নিজ ভূমিতে সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার প্রচেষ্টা। এই ভূমিতে বাঙালি ছাড়া অন্য কোনো গোষ্ঠীকে আদিবাসী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হলে, বাঙালির সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


উপসংহার
৩ লাখ শহীদের রক্তে অর্জিত বাংলাদেশে সকল জাতিগোষ্ঠীই সমান অধিকার ভোগ করছে। হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙালি এ ভূমির মূল উত্তরসূরি এবং পার্বত্য অঞ্চলের নৃগোষ্ঠীরাও উন্নয়নের ছোঁয়া পেয়েছে। তাই এদেশে কোনো বৈষম্য বা বঞ্চনার জায়গা নেই।

উপজাতি, আদিবাসী সবই মানুষ, ভূমিপুত্র।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

buttons=(Accept !) days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !