কোটা আন্দোলনে শহীদ নিস্পাপ শিশু রিয়া গোপ

 

জুলাই বিপ্লবের উত্তাল দিন গুলোতে,দুপুরে নারায়ণগঞ্জের নয়ামাটি এলাকায় গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। রাস্তার পাথরে রক্তের দাগ পড়ে ছিল, আর মানুষগুলো ছুটে চলছিল তাদের প্রাণ বাঁচাতে। কিন্তু এক কোণে, বাসার ছাদে এক স্নিগ্ধ দুপুরে খেলা করছিল ছোট্ট রিয়া গোপ। তার বয়স সাড়ে ছয় বছর, আর সেদিন ছিল তার জীবনের শেষ দিন।

দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর রিয়া ছাদে খেলতে গিয়েছিল। তার বাবা, দীপক কুমার গোপ, যখন বাসার নিচের তলায় কাজ করছিলেন, তখন কিছু সময় পর একের পর এক গুলির আওয়াজ আসতে থাকে। রিয়া তখন ছাদের এক কোণে খেলা করছিল। 

অভাগা বাবা ছাদে চলে আসেন রিয়াকে দেখতে, যখন হঠাৎ করেই সেই দুর্বিপাক ঘটে। এক গুলি এসে লেগে যায় রিয়ার মাথায়, সে নেমে পড়ে বাবার কোলে। ছোট্ট রিয়া, যিনি তার সারা পৃথিবীকে বাবার কোলে খুঁজে পেত, এখন সে বাবার কোলেই নিথর হয়ে যায়।

বাবা তৎক্ষণাৎ তাকে কোলে তুলে নেন, আর দ্রুত হাসপাতালের দিকে ছুটে যান। ক্লিনিক থেকে চিকিৎসকেরা খুব দ্রুত বলে দেন, 'এটা গুরুতর, ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যান।'

ঢাকা মেডিকেল কলেজে এসে রিয়ার ওপর অস্ত্রোপচার হয়। চিকিৎসকেরা আশ্বস্ত করেন, কিন্তু ৭২ ঘণ্টা পার না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা সম্ভব নয়। আশা ছিল, রিয়া হয়তো ফিরে আসবে। কিন্তু রবিবার, সোমবার তার ছোট্ট আঙুলের নড়াচড়া দেখে তার পরিবার কিছুটা আশার আলো পেয়েছিল। কিন্তু বুধবার সকালে, এক মর্মান্তিক ঘটনাতে, সেই নড়াচড়া থেমে যায়। রিয়া চলে যায় না-ফেরার দেশে।

রিয়া গোপ, যিনি একমাত্র সন্তান ছিলেন দীপক ও বিউটি ঘোষের, স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছিল। তার এ অকাল মৃত্যু শুধু তার পরিবারকেই নয়, পুরো সমাজকে শোকের মধ্যে ডুবিয়ে দিয়েছে। 

এভাবেই হয়তো ইতিহাসের এক নিষ্ঠুর অধ্যায় হয়ে রিয়ার গল্প সংরক্ষিত থাকবে, একটি সমাজের শোক ও তার চিহ্ন হয়ে।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

buttons=(Accept !) days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !